পরিত্যক্ত বোতলে কপাল খুলেছে নুর আলমের

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২১; সময়: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ |

পানি কিংবা কোমলপানীয় পানের পর প্লাস্টিকের বোতলটি সাধারণত ফেলেই দিই আমরা। সেই ফেলে দেয়া পরিত্যক্ত বোতলে কপাল খুলেছে মিরপুরের যুবক মোহাম্মদ নুর আলমের। এসব বোতলে তৈরি পণ্য বিক্রি করে তিনি হয়েছেন সাবলম্বী। নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন দুটি কারখানা। এসব কারখানায় অনেক বেকার নারী-পুরুষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিরপুরের যুবক মোহাম্মদ নুর আলম সাভারের ভরারী ও মিরপুরের বেড়িবাঁধের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় ২০০৬ সালে শুরু করেন পরিত্যক্ত বোতল দিয়ে এসব পণ্য তৈরির কাজ।

তিনি জানান, পথে-ঘাটে প্লাস্টিকের বোতল পড়ে থাকতে দেখে আমার মাথায় বুদ্ধি আসে, এই প্লাস্টিকের বোতলগুলোকে কাজে লাগানো যায় কি না। এসব বোতল মাটিতে বা পানিতে নষ্ট হয় না, শুধু পরিবেশ দূষিত হয়। এগুলো কাজে লাগানো গেলে পরিবেশ দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব এ প্রশ্ন তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। পরে তিনি দুটি বোতল কারখানা দেন।

প্রথমে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিত্যক্ত বোতল কিনে কারখানায় আনেন। পরে শ্রমিকরা বোতলগুলো বাছাই করেন। বাছাই করার পরে সেগুলো গেডিং করে কাটিং মেশিনে ভাঙ্গা হয়। ভাঙ্গার পরে পানিতে বোতলের দানা গুলো আবার ওয়াশ করা হয়। পরে সেগুলো ল্যাবে গুণগত মান পরীক্ষা করে চূড়ান্ত ভাবে সেগুলো দিয়ে পলিস্টার, পেনস্টিপ, জিও ব্যাগ, মগ, বালতি, তুলা, সুতার কাপড়, শিশুদের খেলনাসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়।

শ্রমিকরা জানায়, তারা এখানে কাজ করে ভালো বেতন পেয়ে ভালো ভাবে সংসার চালাতে পারছেন। সরকারি ভাবে একটু সুযোগ সুবিধা বা প্রণোদনা পেলে বড় পরিসরে তিনি আরো কারখানা করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ নুরুল আলম।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কারখানাগুলো পরিদর্শন করে তাকে সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, আমরা সাধারণত কোমল পানিয় পানের পর প্লাস্টিকের বোতল পেলে দেই। কিন্তু এসব পরিত্যক্ত বোতলের কারণে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। আর এসব কারখানার মালিকেরা পরিবেশকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এমন উদ্যোগ সত্যই প্রশংসনীয়।

উপরে